শিরোনাম
মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত বিনা-১৯ এর নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের পক্ষে মাগুরাজেলা বাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন শাখারুল ইসলাম শাকিল মাগুরায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছে এস এস সি ২০০১ মিলনমেলা, বৃহত্তর যশোর নামের ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা মাগুরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহনের আহবানে চিঠির মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৪ আসামীর দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত মাগুরায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন মাগুরায় ডিসি অফিস সংলগ্ন মার্কেটে দুই নৈশ প্রহরীকে হাতপা বেধে ডাকাতির চেষ্টা মাগুরায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫০ বাড়িতে রাতের আধারে ধর্মান্তরিত হওয়ার চিঠি ; এলাকায় উৎকন্ঠা মাগুরায় পাঁচ রত্নগর্ভা মা’কে সম্মাননা মাগুরায় ডাল ফসল মুগ-এ জীবাণু সারের ব্যবহার পদ্ধতি শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষন কর্মশালা মাগুরা মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের এমবিবিএস পরীক্ষা শুরু
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
add

মাগুরায় মধুমতির ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ১০ গ্রামের অসংখ্য বাড়ি-ঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি / ১০৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
add

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতির ভয়াবহ ভাঙনে বিরীন হচ্ছে বাড়ি-ঘর ফসলি জমি ও গাছপালা। গত কয়েক বছরে অব্যাহত ভাঙনে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। টিকে থাকা বাকি গ্রামগুলোও চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিন ধওে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না । এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ডও (পাউবো) ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ।

জেলার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাাখা মধুমতির ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী তীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এখন বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। এসব এলাকায় ভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। গত তিন দিনে নদী গ্রাস করছে দেড় হাজার একর আবাদি জমি, গাছপাালা বসতভিটা মসজিদসহ কয়েকশ’ স্থাপনা। ভাঙনের মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা। আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

সরেজমিন রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে মধুমতির ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বারিদিয়া ইউনিয়নের হরেকৃষ্ণপুর, সদর ইউনিয়নের গোপালনগর,কাশিপুর, রায়পাশা, ভোলানাথপুর, পাচুড়িয়া, রুইজানী ও পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝামা, আড়মাঝি,যশোবন্তপুর গ্রামগুলো তীব্র ভাঙন কবলিত। এসব এসব এলাকার নদী তীরের কয়েক’শ বসতবাড়ি ইতিমধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গছে। অসংখ্য স্থাপনা বসতঘর, কৃষি জমি ও গাছপালা হুমকির মুখে রয়েছে। লোকজন বাড়ি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে গাছপালা বিক্রি করে দিচ্ছেন। উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন কবরস্থান কাশিপুর গোরস্থান থেকে ৫০ গজ দূরে ফুঁসছে মধুমতি। নদী ক্রমেই বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে। ২০কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ বাঁধ ভেঙে গেলে হুমকির মুখে পড়বে উপজেলার বিস্ত্রীর্ণ জনপদ। হরেকৃষ্ণপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মধুমতি তীরবর্তী জনপদে বসতিদের মধ্যে এখন বিরাজ করছে তীব্্র ভাঙন আতঙ্ক। লোকজন তাদের বসতঘরগুলো এমনভাবে নির্মাণ করছেন, যাতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়। গাছপালা কেটে সরিয়ে নিচ্ছেন লোকজন। কোন বাড়ির ভিটিই পাকা নয়। নদীভাঙনে পাঁচ থেকে সাতবার বসত ভিটা সরিয়ে নিয়েছেন এমন পরিবারের সংখ্যা অনেক। নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। এতে ভাঙন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নদী এখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মধুমতির ভাঙনে এসব এলাকার অনেক অবস্থাপন্ন পরিবার এখন নিঃস্ব, পরের জমিতে আশ্রিত। কেউ দিনমজুর কিংবা নৌকার মাঝি। অনেকে সহায়সম্বল হারিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বালিদিয়া ইউনিয়নের হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের খবির ডাক্তার (৭১),সালেহা খাতুন(৫৫), আকরাম হোসেন (৫২), ফিরোজ মিয়া (৪৫) কাশিপুর গ্রামের পিকুল মোল্যা (৩০), জয়েন উদ্দিন মোল্যা (৭০) মোসলেম শেখ (৫০), পান্নু মোল্যা (৫০), রুইজানি গ্রামের প্রিয়নাথ চৌধুরী (৫০), ভোলানাথপুরের সচিন বিশ্বাস (৬৫), পূর্ণ চৌধুরী ঝামা ও চর ঝামা এলাকার ইয়াসিন মোল্যা (৬০), জাহাঙ্গীর মোল্য (৩৫) ও আলী আফজালের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় তারা অবস্থাপন্ন ছিলেন। গোয়াল ভরা গরু ছিল। ঘরবাড়ি, পুকুর ফসলি জমি সবই ছিল। চোখের সামনে শেষ সম্বল বাপ-দাদার ভিটে নদীতে বিলীন হওয়ার দৃশ্য তারা অসহায়ের মতো চেয়ে দেখছেন। ধুলজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন খাঁন বলেন, ‘মধুমতি আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। আছে শুধু বসত ভিটা। এবার মনে হচ্ছে শেষ রক্ষা আর হবে না।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মিজানূর রহমান জানান, মধুমতির ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি করবেন বলে জানান।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন বলেন, মধুমতির ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।
মাগুরা-২ (মহম্মদপুর-শালিখা) আসনের সংসদ সদস্য ড. শ্রী বীরেন শিকদার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে নদী শাসনের বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শুরু হবে।’

বি/কে, মাগুরা নিউজ টুডে।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট