শিরোনাম
মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক হলেন রিয়াজ আশুগঞ্জ পুর্ববাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত মাগুরায় যমুনা ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন মাগুরায় আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্সুইরেন্সের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়া পুলিশের দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের ৮ম ব্যাচের সনদ বিতরণ অ্যাডভান্স প্রাইভেট সেন্টারের আয়োজনে দিনাজপুরে এসএসসি প্রস্তুতি ব্যাচ ২৩’র ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেলেন ওবাইদুল হক রাসেল নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ছাত্রলীগের সেক্রেটারিকে গণধোলাই ও জুতা পিটা করলেন কর্মীরা কুমিল্লা বিভাগীয় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি সভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক পেলেন মাগুরার মেধাবী শিক্ষার্থী শেখ মহিউদ্দিন
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
add

আইনের তোয়াক্কা না করে সরাইলে ফসলি জমি থেকে অবাধে বালু-মাটি উত্তোলন

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতাঃ / ৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২
add

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কৃষিজমি সুরক্ষা আইনেবর তোয়াক্কা না করে ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপশি উত্তোলিত বালু দিয়ে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পুরোনো জলাশয়। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং পাশর্^বর্তী জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের এই অপকর্মে বাধা দিতে সাহস পাচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি থেকে গভীরভাবে খনন করে বালু উত্তোলন করায় আশপাশের জমি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কখন কার জমি ভেঙে পাশের গর্তে পড়ে কৃষকদের মধ্যে এমন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বেরতলা মোজাহিদ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের তিনটি জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করে বালু-মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু-মাটি বিক্রি করার পাশাপাশি মাটি ফেলে প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গার একটি পুরোনো জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে।
অপরিকল্পিতভাবে গভীর খনন করার কারণে চারপাশের মাটি দেবে ভেঙে পড়ছে ড্রেজারের গর্তের মধ্যে। ফলে প¦াশবর্তী কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে জলাশয় ভরাট করার ফলে পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশ বিপয়য়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষদের অভিযোগ বেরতলা গ্রামের মোজাহিদ ফিলিং স্টেমনের স্বত্বাধিকারি মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজনের একটি চক্র বিভিন্ন কায়দায় মাঠের মাঝের কিছু জমি কৌশলে ক্রয় করে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রয় করে দিচ্ছে। পাশাপাশি চলছে পকুর কিংবা অন্য ফসলি জমি ভরাটের কাজ। অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে ৫০-৬০ ফুট গভীর থেকে মাটি ও বালি উত্তোলনের কারণে আশ-পাশের তিন ফসলের জমিগুলো ডোবায় পরিণত হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ ভারসম্য হারাচ্ছে। উল্লেখ্য বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪-এর (খ) অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারী দুই বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আর প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এ বিধান লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ। কিন্তু উল্লেখিত প্রভাবশালী চক্রটি নিজেদের মালিকানাধীন জমি ও জলাশয়ে নিজেদের ইচ্ছায় যা খুশি তা করতে পারবে এমন যুক্তি দেখিয়ে উল্লেখিত আইন কানুনের কোন তোয়াক্কা করছেনা। বুধবার দুপুরে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজার চালকরা মেশিনপত্র বন্ধ করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাংবাদিকরা চলে আসার পর তারা আবারো মাটি কাটার কাজ শুরু করেন। এ ব্যাপারে ড্রেজারের ঠিকাদার বেরতলা গ্রামের আমীর হোসেন ওরফে কালু মিয়া আশিকুর রহমান রনি, ইমরান তালাশি ও লাইলী রহমান নামে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘সব কি আর আইন মেনে হয়। আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করি।’ উল্লেখিত তিনজন নিজেদেরকে ঢাকার বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ড্রেজার সিন্ডিকেট থেকে নিয়মিত চাঁদা নেন বলে তিনি জানান। পরে খোজ নিয়ে জানা যায়, তারা নিজেদেরকে বিবিসি নিউজ নামে একটি অখ্যাত নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়ে আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। এধরনের অভিযোগে আশুগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আশিকুর রহমান রনি গ্রেফতার হয়ে বেশ কয়েকবার জেলও কেটেছেন। রনির স্ত্রী লাইলী রহমান নিেেজকে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বলেও পরিচয় দেন। তবে প্রশাসনের কাকে ম্যানেজ করে কাজ করেন এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি কালো মিয়া। এ ব্যাপারে কথা বলতে মোজাহিদুল ইসলামের ০১৬৮৭৪৬৫৭৭৪ এই মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ পরিচালক সুশান্ত সাহা বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ পরিচালক খালেদ হোসেন বলেন, যে কোন ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনের জন্য অনুমতি লাগবে। জলাশয় ভরাটের বিষয়টি আমরা খবর নেব। তবে কৃষি জমি খনন করার বিষয়টি কৃষি অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের ব্যাপার। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুল হক মৃদুল বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ০৬.১১.২০২২ইং
Enter

Jahir

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট